korean_palacesকোরিয়ার সবচেয়ে বড় উৎসব ছুসকের ছুটিতে এবার দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজপ্রাসাদ ও প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এ বছর এই উৎসবের ছুটি থাকছে ২৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর।

ছুসক উপলক্ষে কোরিয়ানরা পরিবার-পরিজনদের সাথে সাক্ষাৎ, রকমারি ভোজ উৎসব ও ধর্মীয় আচারবিধি পালন করে থাকেন। তবে ছুসক এখন কেবলই ঐতিহ্য মেনে কিছু গৎবাঁধা আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং দেশব্যাপী পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র, ঐতিহাসিক স্থান, সাংস্কৃতিক আয়োজনসমূহে কোরিয়ানদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

chardike-ad

এ বিষয়টি মাথায় রেখে কোরিয়ার কালচারাল হেরিটেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ বছর বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ছুসকের দিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে জংমো মঠ ও রাজকীয় সমাধিসমূহ। সিউলে ছুসকের ছুটিতে বিনামূল্যে সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে খিয়ংবকগুং প্রাসাদ, ছাংদকগুং প্রাসাদ (হুওন উদ্যান বাদে), ছাংইয়ংগুং প্রাসাদ ও দকসুগুং প্রাসাদ।

দকসুগুংয়ে ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান সংগীতের আসর বসবে আগামী বুধবার থেকে রবিবার প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায়। কোরিয়ান লোকগানের আধুনিক সংস্করণ উপভোগ করতে চাইলে আগামী শনি ও রবিবার চলে যেতে পারেন হামনেয়ংজনে। পরিবেশনা শুরু হবে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। জংমো মঠে আগামী শনিবার থাকবে রাজকীয় পূর্বপুরুষদের সম্মানে শাস্ত্রীয় গানের আয়োজন ‘জংমো জেরিয়েক’।

এছাড়া দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা জসন আমলের ৪০টি রাজকীয় সমাধি ছুসকের দিন উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। অনন্য নির্মাণশৈলী, স্থাপত্যকলা ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কারনে এই সমাধিগুলো ২০০৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

দক্ষিণ ছুংছং প্রদেশের আসানে অবস্থিত হিয়নচুংসা মঠ এবং খিউমসানে অবস্থিত অ্যাডমিরাল ওয়াই সুন শিনের সমাধি ও বীর যোদ্ধাদের সমাধিস্থল ছিলবেকে ছুসক উপলক্ষ্যে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘তুহো ও ‘ইয়ুত্নোরি’ খেলার সুযোগ থাকবে।

প্রায় প্রতিটি প্রাসাদ, মঠ ও সমাধিসৌধে দর্শনার্থীদের জন্য কোরিয়ান সংস্কৃতি বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। বিজয়ীদের জন্য থাকবে পুরস্কারের ব্যবস্থাও। আরও বিস্তারিত জানতে ঢুঁ মারতে পারেন www.cha.go.kr-এ অথবা ফোন করুন 042-481-4909-এই নম্বরে।