মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতি ঠেকাতে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আদেশ অনুযায়ী, ভোট প্রদানে এখন থেকে পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা কোনও নথির মাধ্যমে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনের দিন নির্ধারিত সময়ের পর ডাকযোগে আসা ভোট গণনা করতে নিষেধ করা হয়েছে ওই আদেশনামায়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন সহায়তা পরিষদকে নির্দেশনা দিয়েছেন ট্রাম্প।
তার আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এটি নির্বাচনী কারচুপি বন্ধের পথে বড় একটি পদক্ষেপ। সামনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে যেন সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন করতে হবে। দেশ ভুয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এসময় ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, ওই নির্বাচনে তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বৈধ ও অবৈধ নাগরিকদের ভোট প্রদান করা থেকে বিরত রাখতেই নতুন নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনেক ভুয়া ভোট দেওয়া হচ্ছে। যদিও গবেষকরা তার এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, অভিবাসীদের দেওয়া ভুয়া ভোটের সংখ্যা খুবই অল্প।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীলরা। তাদের অভিযোগ, নতুন আদেশের কারণে ভোট দিতে মানুষকে এখন থেকে পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনও সরকারি নথি দেখিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু দরিদ্র ও বৃদ্ধ অনেক ভোটারের হাতে এসব কাগজপত্র না থাকার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি তাদের অনেকের জন্য এসব কাগজ উত্তোলন করতে তুলনামূলক জটিলতা দেখা দেয়।
জনস্বার্থ নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থা, পাবলিক সিটিজেনের সহ-সভাপতি লিসা গিলবার্ট এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের আদেশকে ‘গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আক্রমণ’ এবং ‘একনায়কসুলভ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থা দুর্বল করবে এবং লাখো আমেরিকানের ভোটাধিকার কেড়ে নেবে। বিশেষত ভিন্ন বর্ণের ভোটাররা তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।